আদেশ না মানলে কী হবে মিয়ানমারের

7

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা এবং গণহত্যার তদন্তে সহযোগিতার জন্য মিয়ানমারকে নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (আইসিজে)। কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা নিয়মিত জানাতেও দেশটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বড় প্রশ্ন হচ্ছে- মিয়ানমার এ আদেশ না মানলে কী হবে।

ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অন জুরিস্টের বৈশ্বিক জবাবদিহিতা উদ্যোগের জ্যেষ্ঠ আইন উপদেষ্টা এবং সমন্বয়ক কিংসলে অ্যাবট সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবারের আদেশটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গণহত্যা কনভেনশন অনুসারে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার বাধ্যবাধকতা পালন করছে কিনা তার ওপর আদালতের বিচারিক নজরদারি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার এ আদেশ মানতে আইনত বাধ্য। এ লক্ষ্যে মিয়ানমার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা আদালতে নিয়মিত জানাতে হবে (প্রথমে চার

মাস পর এবং এরপর ছয় মাস পরপর)। দেশটি আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলার জন্য ভীষণ চাপে থাকবে। কারণ জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত এ আদেশ দিয়েছেন এবং এর এখতিয়ার দেশটি ইতিমধ্যেই মেনে নিয়েছে।’ তবে মিয়ানমার নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত জাতিসংঘের শীর্ষ আদালতের আদেশ মানতে অস্বীকৃতি জানালে কী হবে? দেশটির দাবি- সেখানে গণহত্যার ঘটনা ঘটেনি। সর্বোপরি মিয়ানমারের সাবেক সামরিক জান্তা আন্তর্জাতিক চাপ এড়াতে দশকের পর দশক দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতেই পছন্দ করেছে।

১৯৯৫ কেজি খিচুড়ি রান্না করে বিশ্ব রেকর্ড ≣ সকল রাজকীয় দায়িত্ব ছাড়লেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান, আহত হয়েছে রাজপরিবার, জানালো বাকিংহাম প্যালেস ≣ মাদকের কারণে যে ব্যক্তির দাঁত পড়ে যায়, তার পক্ষে কাউকে টেনে নিয়ে ধর্ষণ তো দূরে থাক, নিজেকে টেনে তোলার ক্ষমতাই থাকে না
এশিয়া জাস্টিস কোয়ালিশন সেক্রেটারিয়েটের প্রধান এবং আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ প্রিয়া পিল্লাই বলেন, মিয়ানমার এ আদেশ না মানলে তা আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে এবং এটা তখন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদে যেতে পারে। ফলে এ আদেশ না মানা মিয়ানমারের স্বার্থের অনুক‚লে নয়। এটা আদালতের সর্বসম্মত আদেশ।

মিয়ানমারকে দীর্ঘ সময় চাপে থাকতে হবে। প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও চাপ আসবে। যেমন- মালয়েশিয়া বলেছে, এ আদেশে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ প্রতিফলিত হয়েছে এবং রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিচার হওয়া দরকার। অবশ্য কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা করছেন, আইসিজের আদেশকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আবার হামলা চালাতে পারে। উগ্র বৌদ্ধদেরও ব্যবহার করতে পারে তারা।

রাখাইনের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী আরাকান প্রজেক্টের পরিচালক ক্রিস লিওয়া বলেন, সরকার কী প্রতিক্রিয়া দেখায় সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। অং সান সু চির সরকার ভয়াবহ অপরাধের কথা স্বীকার করলেও গণহত্যার অভিযোগ মেনে নেয়নি। আইসিজে জাতিসংঘের তদন্তকারীদের রাখাইনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আদেশ দেননি। এ সুযোগে গণহত্যার আলামত নষ্ট করে ফেলতে পারে সেনাবাহিনী। তাই আইসিসি তদন্তকারীদের অবাধে তদন্ত চালানোর সুযোগ থাকতে হবে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান চাথাম হাউসের এশিয়া প্যাসিফিক প্রোগ্রামের পরিচালক ড. চম্পা প্যাটেল নিবন্ধে লিখেছেন, এ আদেশ সত্যিই যুগান্তকারী। মামলাটি দেখাল, একটি ছোট্ট দেশও কীভাবে আন্তর্জাতিক আইনে অন্য দেশকে জবাবদিহির আওতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিরাপত্তা পরিষদ এ আদেশ মানতে বাধ্য করার প্রস্তাব পাস করতে পারে।
আইসিজের আদেশকে স্বাগত জানালেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনী যেন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধে না জড়ায়।

মিয়ানমারের প্রত্যাখ্যান : আইসিজের আদেশকে প্রত্যাখ্যান করে মিয়ানমার বলেছে, এতে পরিস্থিতির বিকৃত চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। অং সান সু চি বলেছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য আরও সময় প্রয়োজন।-সমকাল