আইএস উত্থানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী – রাশেদ খান মেনন

যুগবার্তা ডেস্কঃ জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) উত্থানের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করলেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেছেন, নিজেদের সক্ষমতা দিয়ে সব জঙ্গিদের বাংলাদেশ মোকাবিলা করবে।
বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সমাজতান্ত্রিক চীনের ৬৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের এক আলোচনা সভায় রাশেদ খান মেনন এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান মেনন বলেন, আমাদের বলা হচ্ছে আইএস মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সহায়তা করবে। আমি বলি-ক্ষমা করুন। কারণ আইএসের উত্থানের জন্য আপনারা দায়ী। দয়া করে প্রতিরোধের নামে আইএসকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেবেন না। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের সক্ষমতা দিয়ে আইএসসহ সব জঙ্গিদের নিপাত করব, মোকাবিলা করব। এটা আমাদের দৃঢ় প্রত্যয় এবং বাংলাদেশের মাটি সেই দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করে।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিও সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, বাংলাদেশের জন্য চীনের প্রয়োজন। চীনের জন্য বাংলাদেশকে প্রয়োজন। আমরা যতই ক্ষুদ্র হই না কেন। এই অঞ্চলের শান্তিশৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা, বঙ্গোপসাগর থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত শান্তি বিঘিœত করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশকে তারা নরম পেয়ে, সফট ভ্যালি বলে সেখানে পা রাখার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশকে ঘিরে এবং অন্যান্য দেশকে নিয়ে চীনের বিরুদ্ধে ঘেরাও নীতি চালু করতে যাচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশ এবং চীন এক অভিন্ন বন্ধু হিসেবে হাত ধরাধরি করে এগিয়ে চলেছে। হাত ধরাধরি করে এগিয়ে যাবে।
মেনন বলেন, আমরা যখন দেখি সিরিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আইএসকে অস্ত্র দিয়ে সেখানে একটি নরক তৈরি করেছে। সেখানে আজকে রাশিয়া যখন এর বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে চীন তখন তাদের পাশে স্থিতিশীল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিদেশিদের আতঙ্কিত হওয়াার বিষয়ে মেনন বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনায় বিদেশিরা আতঙ্কিত হয়েছেন। তাঁরা না কি দেশে চলে যাবেন, আসবেন না। আমি জিজ্ঞাসা করি, কতজন আপনাদের মাঠে-ময়দানে আছেন যে আপনাদের একেবারে হাঁটুতে কাঁপন ধরে গেল? চীনের বন্ধুরা তো মাঠে রয়েছেন। বড়পুকুরিয়ায় কয়লা উত্তোলন করছেন, পদ্মা ব্রিজ বানাচ্ছেন, ফোর লেন হাইওয়ে বানাচ্ছেন। তাঁরা তো মাঠে থেকে কাজ করছেন, কই তারা তো অনিরাপদ বোধ করছেন না! আসলে চোরের মন পুলিশ, পুলিশ। তারা সর্প হয়ে দংশন করে, ওঝা হয়ে ঝাড়তে চায়।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন একটি গোষ্ঠী ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। বিএনপি-জামায়াতের উদ্দেশ্যে সফল হবে না। তিনি বলেন, আমরা দ্বিচারিতা রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। বিদেশি বন্ধুরা আমাদের সঙ্গে আছে।
তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, বিদেশিদের প্রেসক্রিপশনে বাংলাদেশের রাজনীতি-অর্থনীতি চালানো হবে না। ষড়যন্ত্র চলছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মা মিংকিয়াং তাঁর বক্তৃতায় বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক দৃঢ় করতে এ দেশের মানুষের সমর্থন আশা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবং চীনের সম্পর্ক এখন অনেক দৃঢ়। আশা করি, এ দেশের মানুষ সেই সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে তাঁদের সমর্থন অব্যাহত রাখবেন।
সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিভিন্ন বাম সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য দেন।-সূত্রঃ সাম্যবাদী দল