অস্বাভাবিক গৃহকর বৃদ্ধি অযৌক্তিক

যুগবার্তা ডেস্কঃ ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এর গৃহকর বৃদ্ধির প্রতিবাদে সেগুনবাগিচাবাসীর সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এই অস্বাভাবিক গৃহকর বৃদ্ধি অযৌক্তিক। এই গৃহ কর বৃদ্ধি বন্ধ না হলে ঢাকাবাসীকে নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানানো হয়।

মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে সেগুনবাগিচা সোসাইটি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য রাখেন সোসাইটির সভাপতি এ.কে.এম. জব্বার ফারুক। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সোসাইটির মহাসচিব আক্তার হোসেন চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা রুহিন হোসেন প্রিন্স, মোস্তাফিজুর রহমান, মোস্তফা জয়নাল, আলহাজ্ব অ্যাড. আব্দুর রব, গফুর প্রধান, সেকেন্দার হায়াত, শাহ জসিমউদ্দিন, মো. কামরুজ্জামান প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন গৃহকর সমন্বয়ের নামে অস্বাভাবিক মাত্রাতিরিক্তও অসহনীয় পর্যায়ে বৃদ্ধি করেছে। যেখানে পূর্ব নির্ধারিত গৃহকর ছিল ৬০০/- টাকা, সেক্ষেত্রে গৃহকর নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫,৬০০/- অর্থাৎ প্রায় ৭৬ গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সেগুনবাগিচা প্রধানত একটি আবাসিক এলাকা। যেখানে সকল পুরাতন বাড়ি ভেঙ্গে একই হোল্ডিংয়ে একটি বাড়ির পরিবর্তে ৩০-১০০টি ফ্ল্যাট সমন্বয়ে সব বহুতল বিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মিত হয়েছে এবং এখানে ২০০৫ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত গৃহকরের মূল্যায়ন কাজ করে সিটি কর্পোরেশন। তাদের বর্তমান নিয়মেই আমাদের কাছ থেকে গৃহকর নিচ্ছে। কাজেই সেগুনবাগিচার ক্ষেত্রে পুরনো ও নতুন গৃহকরের সমতা আনতে নতুন করে মূল্যায়নের কোন অবকাশ নেই। দলিল মূলে মালিক হওয়া সত্ত্বেও মিউটেশন হযনি বলে দখলদার দেখিয়ে ৪০% রিবেট প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অথচ এই বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্টে আমাদের মামলা বিচারাধীন হয়েছে। এই মামলা ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত আমাদেরকে দখলদার বলা আইনত যুক্তিসঙ্গত নয়। ২০১৬ সালে নতুন নূল্যায়ন প্রক্রিয়া শুরু করার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের নিকট যৌক্তিক মাত্রায় কর নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়ে লিখিত ও মৌখিকভাবে অনুরোধ করা হলেও তা আমলে নেননি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইতিপূর্বের করের তুলনায় ৩০-৪৫ গুণ বা ১০০০-৪০০০ ভাগ গৃহকর বৃদ্ধি পেয়েছে। গৃহকর বাড়ানোর বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনে সেবাগত মান যথা পরিবহন, পয়ঃপ্রণালি, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মত কোনো সেবা উল্লখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়নি। বরং যানজট, জলাবদ্ধতা, অবৈধ দখল ইত্যাদি দিন দিন বেড়েই চলেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আমরা দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিয়মিত ন্যায়সঙ্গত গহকর দিতে চাই। মহানগরের নাগরিক হয়েও তাবৎ হতাশা নিয়ে আমাদের পথ চলতে হয়, যানজটে নাকাল, খানা-খন্দে বিপদ, আবর্জনায় ভরা বসবাসের অনুপযোগী এ শহরের সার্বিক সেবার মন যতটুকুই বাড়লো, তবুও আমরা উনśয়নের গতি ধরে রাখতে গৃহকর বিধিমতে যৌক্তিভাবে বৃদ্ধি করলে দিতে আপত্তি নাই। কিন্তু ন্যায়নীতি বিবর্জিত ও অসহনীয় গৃহ করের মূল্যায়ন কোনোভাবেই মানা যায় না।