অব্যবস্থাপনায় শুরু ওয়ারী লকডাউন

6

ডেস্ক রিপোর্টঃ গতকাল শনিবার সকাল ৬টা থেকে লকডাউন শুরু হওয়া ওয়ারীর জয়কালী মন্দিরসংলগ্ন রাস্তার প্রবেশমুখটি বাঁশ দিয়ে আগের দিনই আটকে দেওয়া হয়েছিল, যাতে যাতায়াত করতে না পারে মানুষজন। কাপড়ে ‘প্রবেশ নিষেধ’ লিখে বাঁশের বেড়ার দু’পাশে টানিয়েও দেওয়া হয়েছিল। এরপরও এলাকাবাসী মানছেন না সেটা। বাঁশের ফাঁক গলিয়ে মাথা নিচু করে যাতায়াত করছেন সেখান দিয়ে। সেখানে স্বেচ্ছাসেবক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি। ফলে যে যেমন পেরেছেন ঢুকেছেন, বেরিয়েছেন।

গতকাল শনিবার বেলা ১১টা থেকে ঘণ্টাদেড়েক সরেজমিন সেখানে অবস্থান করে এমন অব্যবস্থাপনার চিত্র পাওয়া গেছে। বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে এক যুবক প্রথমে বাম পা বাঁশের ফাঁক দিয়ে বের করে দেয়। এরপর মাথা। মোবাইল ফোনের ক্যামেরা তার দিকে তাক করতেই ছবি তুলতে বারণ করেন। এরপরই তিনি বেরিয়ে আসেন। নাম-পরিচয় জানতে চাইলে কোনো উত্তর না দিয়ে হাঁটা শুরু করেন। একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘আমি মতিঝিলের একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ব্যবসার কাজে বাইরে আসতে হয়েছে আমাকে।’

অবশ্য জয়কালী মন্দিরসংলগ্ন বাঁশের বেড়া দিয়ে আটকে রাখা স্থানে কোনো স্বেচ্ছাসেবীকে দেখা যায়নি। যে কারণে মানুষ বিনা বাধায় সেখান দিয়ে যাতায়াত করতে পারছে। ওয়ারীতে যাতায়াতের যেসব রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, প্রায় সবগুলোতেই এ রকম চিত্র পাওয়া গেছে। তবে জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতের যে দুটি রাস্তা খোলা রাখা হয়েছে, সেখানে ছিল কড়াকড়ি। স্বেচ্ছাসেবক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে চেয়ার-বেঞ্চ পেতে বসেছিলেন।

যাতায়াতের জন্য খোলা থাকা দুটি রাস্তার গেটে অবস্থান করে দেখা গেছে, বেশিরভাগ অনুরোধ আসছে চিকিৎসা, কর্মস্থল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য। প্রবেশমুখে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা দায়িত্ব পালন করছেন। সকাল থেকেই হটকেকের গলির প্রবেশমুখে বের হওয়ার চেষ্টা করা মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সামাজিক দূরত্ব মানার বালাই ছিল না। এমনকি স্বেচ্ছাসেবীদের কারও কারও মুখে মাস্কও দেখা যায়নি। জরুরি প্রয়োজনে যাদের বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে, তাদের নাম লিখে রাখা হচ্ছে প্রবেশমুখে রেজিস্ট্রার খাতায়।

৬০ বছর বয়সী ওয়ারী স্ট্রিটের বাসিন্দা শামসুন্নাহার দুপুর ১২টার দিকে জরুরি ওষুধ কেনার কথা বলে বাইরে যেতে চান। হটকেক গলির প্রবেশপথে স্বেচ্ছাসেবীদের কাছ থেকে বাধা পেয়ে তর্ক শুরু করে দেন। একজন স্বেচ্ছাসেবী তাকে জানান, ভেতরেই ফার্মেসির দোকান খোলা আছে। সেখান থেকে ওষুধ কিনতে পারবেন। এরপরই শামসুন্নাহার তাদের বলেন, রাজধানী সুপার মার্কেটে যেতে হবে তাকে। সেখানে পোশাক বানাতে দেওয়া আছে। পোশাকের মাপ দিতে হবে। বাধা পেয়ে এক পর্যায়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন শামসুন্নাহার।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এলাকার বাইরে। ব্যবসা ২১ দিন বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে না যেতে পারলে তাদের জীবিকা নির্বাহ করা দুস্কর হয়ে পড়বে।

লকডাউন সংলগ্ন এলাকার কাউন্সিলর (৩৮ নম্বর ওয়ার্ড) আহমেদ ইমতিয়াজ মন্নাফী হটকেকের গলিতে লকডাউন কার্যক্রম তদারকির জন্য অবস্থান করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, মানুষ নানা অজুহাতে বের হতে চাচ্ছে। দুপুর পর্যন্ত তাকে শতাধিক মানুষের অনুরোধের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে লকডাউন কার্যকর করতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. ইমদাদুল হক লকডাউনের চিত্র পরিদর্শনে যান। বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার চিত্র সম্পর্কে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘প্রথম দিনে একটু ভুলত্রুটি হবেই। এগুলো শুধরে নেওয়া হবে।’সমকাল