অধ্যাপক অজিতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি শিক্ষক সমাজের

জাবি প্রতিনিধিঃ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদারের অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ।

সোমবার (২৭শে জুন) রাতে সংগঠনের আহবায়ক অধ্যাপক আব্দুল জব্বার হাওলাদার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানা যায়। এতে বলা হয় ঐ শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘বিগত ২৪শে জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯ তম বার্ষিক সিনেট সভায় মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষকগণের অবসরের বয়স এক বছর বাড়ানোর বিরোধীতা করে পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক এবং গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদের ডিন অজিত কুমার মজুমদার মুক্তিযোদ্ধাদের লুটতরাজকারী ও নারী নিপীড়নকারী বলে মন্তব্য করেছেন।’

সংগঠনটি অধ্যাপক অজিতের শাস্তি নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আহবান জানায়।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ‘ধৃষ্টতামূলক বক্তব্যের মাধ্যমে অধ্যাপক ড. অজিত কুমার মজুমদার বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন প্রকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। সিনেটের সভাপতি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম উক্ত নিন্দনীয় ঘটনার সঠিক বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে এটি দেশবাসীর মুক্তিযুদ্ধের পবিত্র চেতনায় এক চরম আঘাত হিসেবে প্রতীয়মান হবে বলে আমরা সতর্ক করছি। পাশাপাশি রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট বিষয়টি বিশদভাবে খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানাই।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক সাবেক উপ-উপাচার্য ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আমির হোসেনের অবসরের বয়স এক বছর বাড়িয়ে চিঠি দিয়ে পরে তা বাতিলের চেষ্টা করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন। সিনেট অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনায় বেশিরভাগ সিনেট সদস্য মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক অধ্যাপক আমির হোসেনের এই রাষ্ট্রীয় সুবিধা রাখার পক্ষে মত দেন। এতে করে ক্ষিপ্ত হয়ে অধ্যাপক অজিত এই অশালীন মন্তব্য করে অধ্যাপক আমির হোসেনসহ দেশের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মান করেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।’

প্রসঙ্গত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯তম সিনেটের বার্ষিক অধিবেশনে একাত্তর-পরবর্তী সময়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার।

তিনি বলেন, ‘আমার মামাও ছিল মুক্তিযোদ্ধা, এই নির্যাতনে তাকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল। সততার জন্য, অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধারা লুট করা শুরু করছে। এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের কথা বললে অনেক ধরনের কথা আসে।’

অধ্যাপক অজিত বলেন, ‘আজ এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে যে ইমোশন (আবেগ) তৈরি হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের অবশ্যই আমি সম্মান করি। আবার এই মুক্তিযোদ্ধারাই কীভাবে নিপীড়ন করেছে নারীদের, আমি দুয়েকটা নামও বলতে পারি।’

গত ২৪শে জুন অনুষ্ঠিত সিনেটের ৯ নম্বর এজেন্ডায় মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষকদের বয়সসীমা সংক্রান্ত আলোচনায় এমন মন্তব্য করেন ওই শিক্ষক।

তার বক্তব্যের সাত মিনিটের একটি রেকর্ড গণমাধ্যমের কাছে এসেছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে তার এমন মন্তব্যে তাৎক্ষণিক ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত সিনেট সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষকরা।

এব্যাপারে অজিত কুমার সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আমি এমন মন্তব্য করেছি। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের আমি সম্মান করি। ’

অডিও রেকর্ডে অজিত কুমারকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার বয়স যখন ১৪-১৫ তখন মুক্তিযুদ্ধ হয়, মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী কালও দেখেছি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছি। অনেক কিছুই দেখেছি।’