অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়কৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি-ছাত্র ইউনিয়ন

যুগবার্তা ডেস্কঃ মঙ্গলবার বিকালে শাহবাগে এক প্রতিবাদ সভায়, দেশজুড়ে বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়ের প্রতিবাদ এবং এর বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি সংহতি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। সভায় ছাত্র ইউনিয়নের সাথে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সাবেক ছাত্রনেতা মোস্তাফিজুর রহমান, গণস্বাক্ষরতা অভিযানের রেহানা বেগম, সম্মিলিত শিক্ষা ও সংস্কৃতি কার্যক্রমের রাজীব আহমেদ। সভার সঞ্চালনা করেন ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জি এম জিলানী শুভ, সভাপতিত্ব করেন ছাত্রনেতা লাকী আক্তার। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন তুহিন কান্তি দাস, সরদার আল আমীন, জ্যোর্তিময় চক্রবর্তী। বক্তারা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম থেকেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের সাথে পরিচিত করার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। অবিলম্বে, (১) সমগ্র দেশে স্কুল, কলেজে ভর্তি বাণিজ্য, অতিরিক্ত ফি আদায়, অবৈধ-বাধ্যতামূলক কোচিং ফি আদায় বন্ধ করার, (২) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বেতন ফি’র বাইরে আদায়কৃত অর্থ অভিভাবকদের ফেরত প্রদান করার এবং (৩) অতিরিক্ত ফি আদায়কারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
জি এম জিলানী শুভ তার বক্তব্যে বলেন, শিক্ষাখাতে ইউনেস্কো প্রণীত নীতিমালায় স্বাক্ষরিত একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের ২৫ ভাগ বরাদ্দের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে ছাত্র ইউনিয়ন সহ প্রগতিশীল বাম ছাত্র সংগঠনগুলো। কিন্তু তার বদলে শিক্ষাখাতে জাতীয় বাজেটের যে সামান্য ১১.৬৭% বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তার সিংহভাগ ব্যায় হয়ে যায় সামরিক বাহিনীর শিক্ষাখাত এবং শিক্ষকদের বেতনে। অর্থাৎ জাতীয় শিক্ষাবাজেটের ২-৩% এর উপর ভর করে এদেশের ৮৫% শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বক্তারা আরও বলেন, সরকার বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণে কিছুটা ছাত্র বিক্ষোভের সম্মুখীন হচ্ছে তাই তারা বিদ্যালয় থেকেই শিক্ষাকে পণ্যায়িত করে এটিকে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের অভ্যাসে পরিণত করছে। বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষাবাণিজ্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার দৃপ্ত শপথ ব্যক্ত করেন।